ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবে ১০টি খাবার | 10 Foods That Will Control Diabetes | Health Tips


ডায়াবেটিসে কোন খাবারগুলো সবচেয়ে উপকারী? বিশ্বে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সমস্যা। সচেতন না হলে ধীরে ধীরে আপনাকে নিঃশেষ করে দিতে পারে এই নীরব ঘাতক। জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রুটিন অনুযায়ী চলাফেরাই পারে একে নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই ডায়াবেটিস রুখে দিতে সচেতনতাই একমাত্র অস্ত্র। ডায়াবেটিস কী? আমরা যখন কোনো খাবার খাই তখন আমাদের শরীর সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে চিনি তথা (গ্লুকোজ) এ রুপান্তরিত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামের যে হরমোন নিসৃত হয়, তা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নির্দেশ দেয় চিনিকে গ্রহণ করার জন্য। এই চিনি কাজ করে শরীরের জ্বালানী বা শক্তি হিসেবে। শরীরে যখন ইনসুলিন তৈরি হতে না পারে অথবা এটি ঠিকমতো কাজ না করে তখনই ডায়াবেটিস হয়। এবং এর ফলে রক্তের মধ্যে চিনি জমা হতে শুরু করে। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে। ডায়াবেটিসের উপসর্গ: ডায়াবেটিস হলে কিছু লক্ষন দেখা দেয়। যেমন:
* বেশি তৃষ্ণা পাওয়া
* স্বাভাবিকের চাইতেও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
* ক্লান্ত বোধ করা।
* কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
* প্রদাহজনিত রোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া।
* দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
* শরীরের কোথাও কেটে গেলে সেটা শুকাতে দেরি হওয়া।
ডায়াবেটিস হলে যেসব সমস্যা হতে পারে:
* রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
* স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
* দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে।
* পায়ে ইনফেকশন হতে পারে।
* কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির ভয় ও থাকে।
ডায়াবেটিস যদিও জেনেটিক এবং আপনার জীবন যাপনের ধরনের ওপর নির্ভরশীল তারপরও চেষ্টা করলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক এমন ১০টি খাবার সম্পর্কে, যা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা খেতে পারেন: বাদাম: বাদামে প্রচুর আঁশ, পুষ্টিকর উপাদান ও হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারি উপাদান আছে। দৈনিক ১০ গ্রাম বাদাম গ্রহণ করলে মারণব্যাধি রোগের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে বলে দাবি গবেষকদের। মাছ: মাছে থাকে প্রচুর প্রোটিন। একটি সুস্থ জীবনধারার জন্য প্রোটিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। মাছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা ৬ আছে যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায়। মাছ বেশি করে ভেজে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। বেরি বা জাম জাতীয় ফল: জাম জাতীয় ফলে অ্যানথোসায়োনেনস নামের উপাদান রয়েছে যা মানবদেহের রক্তের ইনসুলিন ভারসাম্য ঠিক রাখে ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। মটরশুঁটি ও ব্রোকলি: ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেক উপকারী। মটরশুঁটিতে আছে ভরপুর ফাইবার। মটরশুঁটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে সাধারণ মাত্রায় রাখে। ব্রোকলিতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এমন একটি বিশেষ যৌগেআছে । যা ডায়াবেটিস এর সাথে যুদ্ধ করে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। চা: চা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি পানীয়। গ্রিন-টি বা সবুজ চা কিংবা রং চা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। তবে, চায়ে চিনি মেশানো যাবে না। আপেল: আপেল রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর একটি ফল। আপেলে শর্করা প্রায় ৫০ শতাংশ। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও রক্তে কোলেস্টরল এর মাত্রা স্থির রাখে। রসুন: রসুনের উপকারিতা অনেক। রান্নার পাশাপাশি রসুন স্বাস্থ্য ভালো রাখার ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। রসুন কোলেস্টরল এর মাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পালং শাক: পালং শাকে আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাজা এবং অল্প সেদ্ধ করে খেলে বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। পালং শাক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে সুপরিচিত খাবার এর মধ্যে রয়েছে পালং শাক। দারুচিনি: দারুচিনিতে আছে প্রচুর মিনারেল ও ভিটামিন। এটি রক্তে কোলেস্টরল এর পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এটি হৃদয় সুস্থ রাখে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে ইনসুলিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
Keyword: diabetes, diabetes control tips, diabetes mellitus, diabetes symptoms, yoga for diabetes, diabetes diet plan, how to cure diabetes, diabetes cure, cure diabetes, type 2 diabetes, reverse diabetes, how to control diabetes, how to cure diabetes permanently, gestational diabetes, freedom from diabetes, cure for diabetes, diabetes treatment, #ডায়াবেটিস_নিয়ন্ত্রণ_করবে_১০টি_খাবার # Control_Diabetes

Post a Comment

0 Comments