আমাদের নিত্যদিনের এমন অনেক অভ্যাস আছে যা আমাদের প্রতিনিয়ত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে বৃদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক, তবে কখনও কখনও আমরা আমাদের বয়সের আগেই বৃদ্ধ হতে শুরু করি।বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বদভ্যাস ত্যাগ করলেই তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব।
যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনি বয়সের আগেই বৃদ্ধ হতে শুরু করেছেন: অনেকগুলি অঙ্গভঙ্গি যেমন মুখে কুঁচকে যাওয়া, তাড়াতাড়ি ক্লান্তি হওয়া, হাতে ভারী ব্যাগ তুলতে ব্যথার অনুভূতি হওয়া, চুল সাদা হয়ে যাওয়া।
যেসব অভ্যাস থাকলে আপনি বয়সের আগেই বুড়ো হতে পারেন:
1. ধূমপান করা
প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে ধুমপানের কারণে চোখের পাতাগুলি ঝরে পড়ে এবং তাদের মুখের চারপাশে বয়সের ছোপ ধরা পড়ে। যার ফলে চেহরায় বয়সের ছাপ পরিলক্ষিত হয়।
2. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
রিঙ্কেল সরাসরি বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। যাইহোক, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক আলগা হতে শুরু করে, যার কারণে ত্বকের মসৃণতা এবং কমনীয়তা প্রভাবিত হয়। রিঙ্কেল মুখের উপর বিশেষত এই কারণে কারণে চোখের নীচের অংশে তৈরি হয়। এটি সরাসরি আমাদের মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
3. পর্যাপ্ত ঘুম না পাড়া
প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে সুস্থ্য জীবনযাপনের নিমিত্তে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। তবে এমন অনেকেই আছেন যারা রাতে ঠিকমতো ঘুমান না। আর ঘুম কম হলে অকাল বার্ধক্যের লক্ষণগুলিও ধরা পড়ে।
4. নিয়মিত শরীরচর্চা না করা
নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, মনেরও যত্ন নেয়। আপনি যদি ব্যায়াম করতে খুব অলস হন তাহলে বয়সের আগে বার্ধক্য চলে আসবে। আসলে ব্যায়ামের অভাবে শরীরে নমনীয়তা তৈরি হয়, যার কারণে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। যেমন জয়েন্ট বা পেশী ব্যথা। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন।
5. নিয়মিত সোডা পান করা
আসলে, সোডা পান করার ফলে কোষগুলির বয়স বৃদ্ধি পায়। ইউসি সান ফ্রান্সিসকোতে গবেষকরা সায়েন্স ডেইলি- এর এক গবেষণায় জানা গিয়ছে, সোডা পান করার সঙ্গে কোষের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। তাই এ ধরণের পানীয় পরিহার করাই শ্রেয়।
6. বেশিক্ষণ রোদ থাকা
সান ট্যানিংয়ের ফলে আপনার মুখের উপর কুঁচকির সৃষ্টি হতে পারে। ইয়েল মেডিসিন রিপোর্ট অনুসারে, সূর্যের রশ্মি আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সূর্যের কারণে ত্বকের অকাল বয়সের কারণ হয়ে যায়, যাকে আমরা ফটোজিটিং বলি। এটি ত্বকের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ে।
7. কম হাসি
সুস্থভাবে বাঁচতে হলে হাঁসতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যদি অকাল বৃদ্ধ থেকে নিজেকে এড়াতে চান তবে এখানে উল্লিখিত আপনার অভ্যাসগুলি উন্নত করুন। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, অনুশীলন এবং হাসিমুখে করে আপনার মুখ কখনও বয়সের প্রভাব দেখতে পাবে না।
8. কাজে বিশ্রাম না নেয়া
সময়টাই এই রকম, একসঙ্গে অনেক কাজ না করলে যেন উপরে উঠার সিঁড়িই বাওয়া যায় না। অথচ ‘মাল্টিটাস্ক’ মানসিক চাপের সৃষ্টি করে, যা শরীরে প্রভাব ফেলে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট জোসেফ হাসপাতালের ডাক্তার রেইমন্ড কাসশারি বলেন, “অনেকেই মনে করেন মাল্টিটাস্কিং করা ভালো। তবে এটা মানসিক চাপ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না।”
গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে অনুগুলো অস্থির হয়ে থাকে, ফলে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা আর ঠিক হয় না। এর থেকে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।
তাই কাসশারির পরামর্শ হচ্ছে, একটা কাজ শেষ করে তবেই অন্য কাজ শুরু করুন।
9. বেশি মিষ্টি খাওয়া
ওজন বাড়ানো ছাড়াও চামড়ায় বয়সের ছাপ ফেলে মিষ্টি বা চিনি।
স্যান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়ার সার্টিফায়েড চর্মরোগবিশেষজ্ঞ ডা. সুসান স্টুয়ার্ট বলেন, “চিনির অনুগুলো শরীরে ভিতরে প্রতিটি কোষের প্রোটিনতন্তুর সঙ্গে লেগে থাকে। এই ক্ষতিকারক প্রক্রিয়ার নাম গ্লাইকেশন।”
তিনি জানান, এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারায়, চোখের নিচে কালি পড়ে, শরীরে ফোলাভাব আনে, চামড়া কুঁচকে যায় ও ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়।
তাই তরুণ দেখানোর জন্য অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।
10. ধারাবাহিকভাবে টিভি দেখা
ধারাবাহিক নাটক দেখা এক কথা, আর ধারাবাহিকভাবে টিভি দেখে যাওয়া অন্যকথা।
ব্রিটিশ জার্নাল স্পোর্টস মেডিসিন প্রায় ১১ হাজার অস্ট্রালিয়ানের উপর এক জরিপ চালায়। যাদের বয়স ছিল পঁচিশের উপর। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে এক ঘন্টা টেলিভিশন দেখার ফলে প্রতিটি মানুষ ২২ মিনিট করে জীবনের প্রতি আগ্রহ হারায়। আরেকভাবে বলা যায়, দিনে ছয় ঘন্টা টিভি দেখলে পাঁচ বছর আয়ূ কমে।
কাসশারি বলেন, “চুপচাপ বসে থেকে টিভি দেখলে বেশি ক্ষতি হয়। যখন ৩০ মিনিটের বেশি চুপচাপ বসে থাকা হয় তখন শরীরের কোষে চিনি জমতে থাকে। ফলে ওজন বাড়ে।”
৩০ মিনিটের বেশি টিভি দেখলে বা বসে কাজ করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করার পরামর্শ দেন তিনি।
11. দীর্ঘ সময় বসে থাকা
যারা বেশিরভাগ সময় বসে সময় কাটায় তাদের স্থুলতা ছাড়াও কিডনি রোগ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে।
সাধারণভাবেই যারা কায়িক পরিশ্রম করেন বা ব্যয়ামের মধ্যে থাকেন তারা বেশিদিন বাঁচেন।
ব্রিটিশ জার্নাল স্পোর্টস মেডিসিনের জরিপে দেখা যায়, যারা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট বা, এর বেশি ব্যয়াম করেন তারা নিষ্কর্ম মানুষের চাইতে ১০ থেকে ১৩ বছর বেশি বাঁচেন।
12. অতিরিক্ত মেইকআপ করা
বেশি পরিমানে প্রসাধনী ব্যবহার করলে মুখে পড়তে পারে বয়সের ছাপ।
ডা. সুসান স্টুয়ার্ট বলেন, “তৈলাক্ত প্রসাধনী বেশিমাত্রায় ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে প্রসাধনীর কেমিকেল, সুগন্ধীযুক্ত ও অ্যালকোহল ত্বক শুষ্ক করে ফেলে। যা থেকে দেখা দেয় বলিরেখা।”
তাই স্টুয়ার্টের পরামর্শ হচ্ছে এসব ব্যবহারের আগে একজন চর্মরোগবিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া উচিত।
13. উপুর হয়ে ঘুমালে
বালিশে মাথা গুজে শুয়ে থাকলে বা উপুর হয়ে শুয়ে থাকলেও মুখে বার্ধক্যে ছাপ পড়ে।
ফেইশল প্লাস্টিক সার্জন ও স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. জেমস সি. মারোত্তা বলেন, “সবসময় উপুর হয়ে ঘুমালে মুখের সংযোগ কোষগুলোর কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে মুখে বালিশের ভাঁজের দাগ পড়ে। দিনের পর দিন এভাবে ঘুমালে সেই দাগগুলোই মুখে বার্ধক্যে রেখা ফেলে দেয়। তরুণ বয়সের তুলনায় অধিক বয়সে সেই দাগ সহজে দূর হতে চায় না।
14. স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করা
রঙিন যে কোনো পানীয় স্ট্র দিয়ে টেনে খাওয়ার সময় ঠোঁট সরু করতে হয়। এই সময় চোখও কুঁচকে যায়। যা থেকে হতে পারে বলিরেখা। কারণ ঠোঁট চোখা করলে মুখের আশপাশের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে।
নিউ ইয়র্কের চর্মরোগবিশেষজ্ঞ ডা. জ্যানেট প্রেস্টোয়াস্কির ভাষায়, “সিগারেট টানার সময়ও একই ব্যাপার ঘটে।”
তাই এই চিকিৎসকের পরামর্শ হচ্ছে, যারা কোমল পানীয় বেশি ভালোবাসেন তারা স্ট্র বাদ দিয়ে গ্লাসে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
15. খাবার থেকে সব ‘ফ্যাট’ বাদ দিলে
কিছু ফ্যাট বা চর্বি-জাতীয় খাবার শরীরে যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। জানালেন নিউ ইয়র্ক ব্রুকলিনের সার্টিফায়েড পুষ্টিবিদ ও ফিজিওলজিস্ট ফ্রানসি কোহেন।
তিনি বলেন, “তৈলাক্ত মাছ (যেমন স্যামন) থেকে হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। আখরোট বা কাঠবাদাম ত্বক নমনীয় ও পুরু রাখতে সাহায্য করে। এগুলো বলিরেখা প্রতিরোধে সহায়ক। সেই সঙ্গে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও বাড়ায়।”
তিনি আরও জানান, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন খাবারে তালিকায় মাছ রাখার পরামর্শ দিয়েছে দি অ্যাকাডেমি অফ নিউট্রিশন এন্ড ডায়েটেটিকস।
16. জবুথবু হয়ে থাকা
“ঘন্টার পর ঘন্টা কিবোর্ডের সামনে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে আপনাকে করে তুলতে পারে অনাকর্ষণীয়। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথাও হতে পারে।” বললেন, ক্যালিফোর্নিয়া আরভাইনের হোয়াগ অর্থপেডিক ইনিস্টিটিউটের অস্থি ও মেরুদণ্ডের সার্জন ডা. জেরিমি স্মিথ।
তিনি আরও বলেন, “এস’ আকৃতির ‘ওয়েল-ব্যালেন্সড’ মেরুদণ্ড আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখে। জবুথবু হয়ে থাকা বা বাঁকা হয়ে বসে বেশিক্ষণ কাজ করলে মাংসপেশী, হাড়ের জোড়া ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শরীর প্রায়ই ব্যথা করবে। অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে হবে। বেশিদিন এভাবে চললে স্থায়ী ক্ষতিও হয়ে যাবে।”
বসে কাজ করার সময় কান, কাঁধ ও নিতম্ব যেন একই সরল রেখায় বা সমান্তরাল থাকে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
17. অতিরিক্ত ফাস্টফুট খাওয়া
অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস আছে আপনার? তাহলে কিন্তু খুব দ্রুত বুড়িয়ে যাবেন আপনি। কারণ, যাঁরা অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা তেল-মশলা জাতীয় খাবার খান, তাঁদের শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ফলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ফলে দ্রুত বার্ধক্য ঘনিয়ে আসে।
18. অতিরিক্ত রাগ
বিহেভিয়ারাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত রাগ করলে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের নিঃসরণ হয়। এই হরমোনটি শরীরের বয়স বাড়ার প্রকিয়ার গতি বাড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ
শরীরের সমস্ত অঙ্গ ক্রমান্বয়ে দুর্বল হওয়া বার্ধক্যের একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে আমরা সেই লক্ষণগুলি নিয়ে কথা বলছি যা বিশেষত অকাল বয়সের ইঙ্গিত দেয়।
01. মুখে রিঙ্কেল
রিঙ্কেল সরাসরি বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত। যাইহোক, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক আলগা হতে শুরু করে, যার কারণে ত্বকের মসৃণতা এবং কমনীয়তা প্রভাবিত হয়। রিঙ্কেল মুখের উপর বিশেষত এই কারণে কারণে চোখের নীচের অংশে তৈরি হয়। এটি সরাসরি আমাদের খাদ্যাভাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আরও বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফ্যাট, প্রসেসড খাবার, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে কুঁচকে অকাল থেকেই গঠন করা হয়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বেশি ফল এবং শাকসবজি খেলে রিঙ্কেল সমস্যা এড়ানো যায়।
02. দ্রুত চুল পড়া এবং সাদা হওয়া
চুল পড়া এবং সাদা হওয়া আমাদের বার্ধক্যের লক্ষণগুলির মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। তবে, আমরা খুব অল্প বয়স্ক শিশুদের মধ্যে আজও এই সমস্যাটি দেখছি। এর সবচেয়ে বড় কারণটি হচ্ছে দূষণ এবং ভেজাল। দূষণের সরাসরি প্রভাব আমাদের চুল এবং ত্বকে হয়। যার কারণে তারা দুর্বল হতে শুরু করে। এর বাইরে কিছু লোকের মধ্যেও এই সমস্যাটি জেনেটিক। একই সময়ে, ভেজালযুক্ত খাবারে পাওয়া ক্ষতিকারক রাসায়নিকগুলি মেলানিন কণাগুলির ক্ষতি করে, যার ফলে চুল সাদা হয়।
03. ফেকাসে মুখ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে। পুষ্টি, হৃদরোগ, স্ট্রেস এবং ধূমপানের কারণে এটি কখনও কখনও বয়সের আগেও ঘটে। আপনি সহজেই এটি পরিবর্তন করে এটি সংশোধন করতে পারেন জীবনধারা এবং খাবারের অভ্যাস।
04. ঘুম কম হওয়া
ঘুম কম হলে অকাল বার্ধক্যের লক্ষণগুলিও ধরা পড়ে। যেমন-স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘুম বা সহজ ঘুম কমে যাওয়া এ সবের লক্ষণ। এর মূল কারণ হ'ল কার্টিসল হরমোন যা স্ট্রেস বা স্ট্রেস হরমোন নামেও পরিচিত। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কার্টেসল বৃদ্ধি পায়, যার কারণে ঘুম সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে। স্ট্রেস হ্রাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা সহজেই এই ধরনের সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে পারি।
অকাল বার্ধক্য রোধে করণীয়
01. সানস্ক্রিনের ব্যবহার
একটু বাইরে যাওয়া, বাজার করা, রোদের মধ্যে মটরসাইকেল-সাইকেল-গাড়ি চালানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকে বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা কমে। তথ্যটি জানিয়েছেন ওয়েইক ফরেস্ট ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারের চর্মরোগ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. সারাহ এল. টেইলর।
তিনি বলেন, “বলিরেখা পড়ার অন্যতম কারণ হল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা আলট্রাভায়োলেট এক্সপোজার। এমনকি মেঘলা বা বৃষ্টিদিনেও ইউভি লাইট থাকে। এই রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় সানস্ক্রিন। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের এই ক্রিম দিনেরবেলা বাইরে গেলেই ব্যবহার করা উচিত।”
02. চোখের ক্রিম
মুখের অন্যান্য জায়গার চাইতে চোখের আশপাশের চামড়া পাতলা হয়। তাই অক্ষিবলয়ের চারপাশে বলিরেখা তাড়াতাড়ি পড়ে। এই কারণে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি চোখের চামড়ার যত্নের জন্য ‘আইক্রিম’ ব্যবহার করা উচিত।
ডা. সুসান স্টুয়ার্ট বলেন, “চোখের আশপাশ যত বেশি আদ্র রাখা যায়, ততই বার্ধক্যের ছাপ কম পড়ে।”
তার ভাষায়, ভালো আইক্রিমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ময়েশ্চারাইজার, হায়ালোরনিক এসিড ও ভিটামিন সি। এগুলো ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে সহজে চোখের আশপাশে বলিরেখা পড়ে না।
যেসব খাবার অকাল বার্ধক্য রোধ করে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং কিছু খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ত্বকে বয়সের ছাপ অনেকটা প্রতিরোধ করা যায়। যেসব খাদ্য গ্রহণ করলে অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করা যায়-
01. টমেটো
টমেটোতে লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধ করতে খুবই কার্যকরী। এছাড়া এই উপাদানটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
02. বাদাম
চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে বাদামের জুড়ি নেই। বিশেষ করে আখরোটে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় এটি ত্বককে মসৃণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আখরোটে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম থাকে। এ কারণে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় যে কোনও ধরনের বাদাম রাখা উচিত।
03. অলিভ অয়েল
গবেষণা বলছে, অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে তা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে প্রতিদিন দুই বার করে ত্বকে অলিভ অয়েল মালিশ করতে পারেন। এটি ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করবে।
04. ব্রকলি
ত্বকে তারুণ্যতা বজায় রাখতে ডিটক্সিফিকেশন খুবই জরুরী। ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ডিটক্সিফিকেশন উপাদান আছে যা দেহ থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের কোষকে সতেজ রাখে। ত্বকের তারুণ্যতা ধরে রাখতে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন খাদ্য তালিকায় ব্রকলি রাখতে পারেন।
05. ডালিম
ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন ডালিম খান। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে।
06. পালং শাক
পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট দেহের ফ্রি র্যা ডিকেল ধ্বংস করে দেয় এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
07. হলুদ
হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লামেটরী উপাদান হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বয়সের ছাপ পড়া রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
08. রসূন
রসূন অকাল বার্ধক্য রোধ করে যৌবন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রোজ একটি করে কাঁচা রসুন খেতে হবে। এটি স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়তা করে থাকে।
09. মেথি
মেথি ভেজানো পানি খুবই উপকারি। কারণ এই পানীয় চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। এছাড়া মেথি শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। এটি ত্বকে নতুন কোষ গজিয়ে এর যৌবনতা ফিরিয়ে আনে।
10. থানকুনি পাতা
রোজ খাবারের সঙ্গে কিছু থানকুনি পাতা খেতে পারেন। এটি পেট পরিষ্কার করতে ও যৌবন ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে অনেক সাহায্য করে থাকে।
11. কাঁচা মরিচ
কাঁচা মরিচ ত্বককে প্রাণবন্ত ও সুন্দর রাখতে সহায়তা করে। এটি ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করতেও সাহায্য করে থাকে। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি খাবার। আর এই ভিটামিন সি হল শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে। এটি অকাল বার্ধক্য রোধ করে থাকে।
12. সবুজ শাক সবজি
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি রাখুন। কারণ শাক ও সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে। যা পুরো শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আর এটি ত্বক নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে ও নবযৌবন দান করে থাকে।
13. শস্যজাতীয় খাবার
শস্যজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপেক্স থাকে। আর এই ভিটামিন বি ত্বক ভালো রাখতে খুবই উপকারি। ত্বকের নতুন কোষ গজাতে ভিটামিন বি এর ভূমিকা অনেক। এটি ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলে। আর ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করতেও সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন কিছু শস্য জাতীয় খাবার খেতে হবে।
0 Comments